রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৮ অপরাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধ করতে একগুচ্ছ দাবির মধ্যে নতুন একটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান ‘হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি’ চায়, নতুন এই বিষয়টি দেশটির তালিকায় আগে কখনো ছিল না।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ যে সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেই প্রণালীটিই এখন ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ইরান এখন এই পথটিকে একদিকে যেমন সম্ভাব্য বার্ষিক শত শত কোটি ডলার আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর একটি শক্তিশালী চাপ প্রয়োগের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হামলার শিকার হলে এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল, কিন্তু খুব কম মানুষই ভেবেছিল যে তারা সত্যিই তা কার্যকর করবে। কিন্তু এরই মধ্যে ইরানি হামলার মুখে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এটি তেহরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার নতুন দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা এই প্রভাবকে আরও স্থায়ী রূপ দিতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তার মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নিতে পারলে ইরানের মাসে আয় হবে ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি প্রথম ভাষণে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের সুযোগ ইরান কোনোভাবে হাতছাড়া করবে না।
এদিকে ইরানের এমন পরিকল্পনা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবি এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে এমন খবরদারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিশ্ববাসীকে এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
সূত্র: সিএনএন